বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সি.সি.টি.ভি-র খরচ কোটি টাকার বিতর্ক শেষ হতে না হতেই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সিস্টেম নিয়ে উঠল প্রশ্ন। এবছর বিএডের তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষার্থীর ছবি যেমন নেই। তেমন নেই পরীক্ষা নিয়ামক অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন সই। শুধু তাই নয় বিগত বছরেও এমন দৃষ্টান্তের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের হাতে উঠে এসেছে। আর এমন ঘটনা ঘিরে তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার সাধন সাহা এমন ঘটনাতে হতবাক। তিনি বলেন ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাস এমন ঘটনার জন্য দায়ী। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা করতে গিয়ে এমনই নজির বিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন। দেখা যায়, পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে তবে তাতে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর নেই। আদৌও এমন পরীক্ষার্থী রয়েছে কিনা তা নিয়েও ধন্দে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা গেছে ২০১৭ সালে সামসী কলেজ থেকে এমন ১৪জন পরীক্ষার্থীর হদিস পাওয়া গেছে যাদের অ্যাডমিট কার্ডে কোন রোল নম্বর নেই। তবে সামসী কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছেন। কি করে এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেজাল্টও স্বাক্ষর ছাড়া পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। তারও তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এমন ঘটনা বিগত বছর ধরে কিভাবে ঘটেছে সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে রেজিষ্টার সাধন সাহা জানান আর্থিক লেনদেন অথবা অন্য কোন বিনিময় প্রথার মাধ্যমে তৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা পরীক্ষা নিয়ামক ও তাঁর অনুগামী শিক্ষাকর্মীরা এমন কান্ড ঘটিয়েছেন। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক শ্যামাপদ মন্ডল জানান এমন প্রক্রিয়াতে পরীক্ষা সম্ভব নয়। কিন্তু তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা উচিত। যদিও এই বিষয়ে তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাস কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
মালদা